সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া, টেস্ট বাণিজ্য ও কমিশন খাওয়ার অপসংস্কৃতি স্থায়ীভাবে বন্ধের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন’ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পিপিআরসি এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিক চালানো বা কমিশনে রোগী পাঠানোর মতো অনিয়ম কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বন্ধ করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়ার প্রবণতাও প্রতিহত করা হবে।
বিগত সরকারের আমলের কেনাকাটায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার কারণে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যবহৃত পড়ে আছে। এছাড়া গত চার বছরে হামের টিকা না কেনার ফলে শিশুদের বড় অংশ ঝুঁকিতে পড়েছিল, যা বর্তমান সরকার ১ লাখের বেশি শিশুকে টিকাদানের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ও চট্টগ্রামের একটি বিদেশি কোম্পানির ডায়ালাইসিস ব্যবসার একচ্ছত্র চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। এর বদলে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করবে সরকার।
পাশাপাশি, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে কোনো ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী।
জেএস